প্রিন্ট করার জন্য    ছোটো করে দেখুন বড় করে দেখুন    
70  পরবর্তী শেষ

পরিচালকের কথা

গুপী গাইন ছবি করি আমি আজ থেকে বিশ বছর আগে। ছোটদের জন্য ছবি বাংলায় প্রায় হয় না বললেই চলে, সেই অভাব দূর করার ইচ্ছা আমার মনে অনেক দিন থেকেই উঁকি দিচ্ছিল। তা ছাড়া আমার নিজের ত্রয়োদশ বর্ষীয় পুত্র সন্দীপও এই ছবি করার একটা কারণ। তখন অবধি ওর উপযোগী কোন ছবি আমি করি নি।

উপেন্দ্রকিশোরের গুপী গাইন গল্প আমার ছেলেবেলা থেকেই খুব প্রিয়। বিশেষ ক'রে গুপী ও বাঘার চরিত্র। গুপী গান করে, বাঘা ঢোল বাজায়। দুজনেই অপটু, কিন্তু শখের অন্ত নেই। ভূতের বর পেয়ে তারা গীতবাদ্যের দ্বারা লোককে মন্ত্রমুগ্ধ করার ক্ষমতা পেল। তারপর আছে দুই রাজ্য শুন্ডি ও হাল্লার দুই রাজা। এদের মধ্যে শত্রুতা, এরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়, গুপী-বাঘা তাদের গান-বাজনার জোরে এই যুদ্ধ হতে দেয় না।

এই কাঠামো থেকেই চিত্রনাট্য রচনা হয়েছিল। অনেক নতুন চরিত্র এ ঘটনার অবতারনা করতে হয়েছিল। রাজস্থানের দু'টি বিখ্যাত কেল্লা দুই রাজার প্রাসাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি বুঁদিতে, অন্যটি জয়সলমিরে। এ ছাড়া গান রচনা করতে হয়েছিল খান আষ্টেক।

ছবিটি দেখে কেউ কেউ মন্তব্য করেছিল এতে শান্তির বাণী প্রচার করা হয়েছে। আমি যখন ছবিটি করি তখন আমার মনে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। আমি কেবল একটি মজাদার গল্পই বলতে চেয়েছিলাম।

গুপী গাইন ছবি ছোটরা সাদরে গ্রহণ করে, এবং ছবিটি দেখানো হলেই ছেলেমায়েরা দল ভিড় ক'রে দেখতে যায়।